feminism

রাষ্ট্র আর পুঁজি কেন নারীবাদকে সমর্থন করছে?

19-October-2022 by east is rising 646

কারণ নারীবাদ রাষ্ট্রের খাজনা বাড়িয়েছে আর পুঁজির মুনাফা বাড়িয়েছে।

কিভাবে বাড়িয়েছে?

নারী শ্রম বাজারে ঢুকে উৎপাদন বাড়িয়েছে আবার পুরুষ শ্রমিকের দর কষাকষির ক্ষমতা কমিয়েছে আবার নতুন বাজারও তৈরি করেছে।

এছাড়াও নারী শ্রম বাজারে ঢোকায় জন্মহার দ্রুত কমেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যা জন প্রতি সম্পদ (যেমন পরিকাঠামো, ব্যঙ্ক পরিষেবা, ডিজিটাল পরিষেবা, শিক্ষা পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, মেশিন সংখ্যা) বাড়িয়েছে যা একেক জন মানুষকে আরও বেশি উৎপাদনশীল হতে সাহায্য করেছে। ফলে নারী শ্রম বাজারে ঢুকে শুধু উৎপাদন বাড়ায়নি, জন্ম হার কমিয়ে তৃতীয় বিশ্বে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

ফলে রাষ্ট্র ও পুঁজি নারীবাদকে সমর্থন করেছে।

কিন্তু ২০২০-তে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। স্বল্প জন্ম হার প্রথম বিশ্বে জন সংখ্যা কমাচ্ছে আর তার ফলে শ্রমিক সংখ্যা আর বাজার দুইই কমছে। প্রথম বিশ্বে জন প্রতি সম্পদ এতোটাই বেড়ে গেছে যে তা ব্যবহার করার লোক পাওয়া যাচ্ছেনা (যেমন জার্মানিতে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রি পাওয়া যাচ্ছেনা)। অর্থাৎ লোক সম্পদের তুলনায় কম থাকায় ঠিক মতো ব্যবহার করা যাচ্ছেনা। তৃতীয় বিশ্বে অবশ্য এখনো মানুষের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিকাঠামো বা মেশিন নেই আর তাই সেখানে কম জন্মহার এখনো পর্যন্ত জন প্রতি সম্পদ বাড়াতে ও উৎপাদনশীলতা বাড়তে সাহায্য করবে। এছাড়াও তৃতীয় বিশ্বে জন্মহার কমা শুরু হয়েছে পরে আর তাই শ্রমিক সংখ্যা কমা বা বাজার সঙ্কুচিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি আসতে আরও ২০-৩০ বছর লাগবে। কিন্তু প্রথম বিশ্বে স্বল্প জন্মহার আসলে খাজনা মুনাফা সবই কমাচ্ছে আর তাই প্রথম বিশ্বে (অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর মালেয়াশিয়া) আগামীদিনে নারীবাদ বিরোধী অবস্থান নেবে রাষ্ট্র আর পুঁজি। তৃতীয় বিশ্বে আরও ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হবে এই নারীবাদ বিরোধী অবস্থানের জন্য।

পুরুষাধিকার আন্দোলনকে খুব ঠাণ্ডা মাথায় এই স্বল্প জন্মহার সঙ্কটকে ত্বরান্বিত করতে হবে। পুরুষের মধ্যে বিয়ে/প্রেম বিরোধী মনন তৈরি করা, একা জীবনকে উপভোগ করা, নিজের জন্য খরচ করা শেখাতে হবে আগামী ২০ বছর। এরকম ঠিক মতো চালাতে পারলে আগামী ২০৪০-২০৫০-এর মধ্যে নারীবাদ বিরোধী ঝড় বইবে। যদি রোবট বা আর্টিফিশিয়াল গর্ভ দিয়ে স্বল্প জন্মহারের সমস্যা দূর না হয় তবে নারী অনেক অর্জিত ন্যায্য স্বাধীনতা হারাতে পারে। তাই বুদ্ধিমতী নারীদের সাবধান হওয়া দরকার। রাষ্ট্র আর পুঁজি পুরুষ শোষণ আর নারী তোষণ ততদিনই করবে যতদিন তা লাভজনক। যখন সময় ঘুরবে রাষ্ট্র আর পুঁজিও ভোল পালটে নেবে। বুদ্ধিমতী নারীদের উচিত নারীবাদী প্রিভিলেজ অস্বীকার করে পুরুষের ন্যায্য দাবীগুলোকে মেনে নেওয়া। নারীবাদী ভুলভাল পুরুষ বিরোধী তত্ত্ব ছেড়ে সময় হয়েছে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এটা বোঝা যে কিভাবে জন্মহারের ওঠানামার ওপর লারীর ও পুরুষের কর্তব্য বদলায়।

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like